শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ৮টি পদক্ষেপের কথা জানাল বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানো।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএ’র সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকা করে দেয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ব্যাংকগুলোর সম্মিলিতভাবে এ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর এর নেপথ্যে সমন্বয়ের কাজ করেছে বিএমবিএ।
মো. ছায়েদুর রহমান আরও বলেন, দেশের শিল্পায়নের স্বার্থে আমরা একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার চাই। এজন্য বিএমবিএ’র নেতৃত্বে ৮ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
উল্লিখিত তিনটি ছাড়া বিএমবিএ’র পাঁচটি পদক্ষেপ হচ্ছে- আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সমুন্নত রাখা, ভালো উদ্যোক্তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো, অংশীজনের সমন্বয়ে প্রতি ৬ মাসে একটি বৃহৎ সেমিনারের উদ্যোগ নেয়া, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে বছরে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার করা।
বিএমবিএ’র সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন আমাদের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে বোঝা যায়, বাজারে অর্থের জোগান কম ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজার উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এরপর দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এক যুগান্তকারী সার্কুলার দিয়েছে। যা ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ ও সাহস জোগাচ্ছে। বাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশ বাড়ানো।
তিনি বলেন, এছাড়া রয়েছে- মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেয়া, সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির সক্ষমতা বাড়ানো, বাজারের প্রতি আস্থা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ, বাজারে আরও ভালো আইপিও তালিকাভুক্তির জন্য বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি লাভজনক কোম্পানি তালিকভুক্তির উদ্যোগ নেয়া।
ছায়েদুর রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে। সামগ্রিকভাবে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাজারে গভীরতা বাড়াবে। বহুজাতিক ও বেসরকারি খাতের স্বনামধন্য কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্তি বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য ও নীতি সহায়তা দরকার।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক থেকে সহজে অর্থের জোগান হয়ে যায় বলে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কঠিন প্রয়োগে কিছু ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে প্রবেশ করতে চায় না। অথচ স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সরবরাহ করছে যা তারল্যে অসামঞ্জস্যতা তৈরি করে। আমরা মনে করি বৃহৎ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা, (বিশেষ করে রেয়াত, ভ্যাট রেয়াত) করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি আইসিবির পুঁজিবাজারের ভূমিকাকে দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ালে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং পুঁজিবাজার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
ছায়েদুর রহমান আরও বলেন, ২০২০ সাল মুজিববর্ষ। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্লোগান হল মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, উন্নয়ন-অর্থায়নের উৎস হবে পুঁজিবাজার। আমরাও এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বিএমবিএ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উদযাপন করবে। তার মতে, দেশের এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সচল রাখতে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা জরুরি। যে কোনো দেশের উন্নয়নের মাত্রা পরিমাপে পুঁজিবাজার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশেও পুঁজিবাজার এখনও আশানুরূপ অবস্থায় পৌঁছায়নি। তবে আশা করি অচিরেই পুঁজিবাজার দৃশ্যমান উন্নয়নে পৌঁছাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মতিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মাহবুব এইচ মজুমদার, নুর আহামেদ এবং মো. হামদুল ইসলাম প্রমুখ।
নগরকন্ঠ.কম/এআর